জৈব সুরক্ষা বলয়ে ঢুকছেন সাকিব-তামিমরা

মঙ্গলবার থেকে ফিরছে ঘরোয়া ক্রিকেট। পাঁচ দলের বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ দিয়ে ২৫১ দিন পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরবে বাংলাদেশে। এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে আয়োজকরা।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে শঙ্কা থাকলেও ক্রিকেটারদের সুরক্ষায় কমতি রাখছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) । পাঁচ দলের এ টুর্নামেন্টে ম্যাচ হবে ২৪টি। জানা গেছে, টুর্নামেন্টের আগে এবং চলাকালিন প্রায় ৪০০ করোনা পরীক্ষা করানো হবে। রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে এমন উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি।

শুক্রবার প্রতিটি দলের খেলোয়াড়রা করোনা পরীক্ষার নমুনা দিয়েছেন। জানা গেছে, মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী, ফরচুন বরিশাল, জেমকন খুলনার কোনো ক্রিকেটারের পজিটিভ ফল আসেনি। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের মাহমুদুল হাসান জয় পজিটিভ হয়েছেন। চাইলে তার গাজী গ্রুপ অপেক্ষা করতে পারে। নয়তো প্লেয়ার্স ড্রাফটের তালিকা থেকে একই ক্যাটাগরি থেকে খেলোয়াড় নিতে পারবে।

শনিবার থেকে ক্রিকেটাররা ঢুকে যাবেন জৈব সুরক্ষা বলয়ে। গত মার্চে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে সারা দুনিয়াতেই খেলা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জুলাই মাস থেকে জৈব সুরক্ষাবিধি মেনেই মাঠে ফিরছে খেলা। জৈব-সুরক্ষা বলয়ে আসলে খেলোয়াড়দের বাইরের দুনিয়া থেকে পুরোপুরি আলাদা করে ফেলা হয়, যাতে করোনা আক্রান্তের ঝুঁকিটা তুলনামূলক কম হয়। এই নিয়মে খেলোয়াড়দের চলাচল নির্দিষ্ট থাকে হোটেল ও মাঠের মধ্যে।

প্রেসিডেন্টস কাপ দিয়ে জৈব সুরক্ষা বলয়ের মহড়া চালিয়েছে বিসিবি। তখন ৪৫ ক্রিকেটার নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছিল। এবার দল সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে ক্রিকেটার সংখ্যাও। ৮০ ক্রিকেটারের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ আসরে সরাসরি যুক্ত থাকবেন প্রায় আরো ২০০-২৫০ জন। এর মধ্যে টিম মেনেজমেন্ট, ম্যাচ অফিসিয়াল, কর্মকর্তা, ব্রডকাস্ট কর্মী, ধারাভাষ্যকার, মাঠ কর্মী, নিরাপত্তা রক্ষীও রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া ক্রিকেটাদেরর কাছাকাছি যেতে পারবেন না কেউ।

এ জন্য রেড ও গ্রীন জোনে ভাগ করা হচ্ছে মিরপুর শের-ই-বাংলা। বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘মিরপুর হোম অব ক্রিকেটের নির্দিষ্ট কিছু অংশে বাদে ক্রিকেটাররা কোথাও যেতে পারবেন না। তাদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। ব্যক্তিগত অনুশীলনের সুযোগ নেই। ক্রিকেটাররা আজ থেকে দলীয় অনুশীলন শুরু করবে।’

ঘরোয়া ক্রিকেট ফেরানোর যে চ্যালেঞ্জ বিসিবি নিয়েছে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে জৈব সুরক্ষা বলয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দিচ্ছে না। এ জন্য দুইজন কোভিড হেলফ অফিসিয়ার নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। যাদের মূল কাজ করোনা পরিস্থিতি সামলানো। টুর্নামেন্টের আগে, পরে বা চলাকালিন কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে জাতীয় ক্রীড়াপল্লী এবং জাতীয় সুইমিংপুলের হোস্টেলে আইসোলেশনে রাখা হবে।

ক্রিকেটারদের রাখা হবে হোটেল সোনারগাঁও। সেখানেও তাদের চলাফেরা হবে সংরক্ষিত। ১৬ ক্রিকেটারের সঙ্গে ৫ জন কোচিং স্টাফ, ম্যানেজার ও তিনজন সাপোর্টিং স্টাফ হোটেলে উঠবেন।

মিরপুরে আজ শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে অনুশীলন। ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তামিমের ফরচুন বরিশাল, ১০টা ৩০ থেকে মাহমুদউল্লাহ, সাকিবদের জেমকন খুলনা অনুশীলন করবে। দুপুরের পর বেক্সিমকো ঢাকার অনুশীলন রয়েছে।